You are here: Home » আন্তর্জাতিক » জাতিগত নিধনের খবর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ খবর হয়ে উঠছে

জাতিগত নিধনের খবর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ খবর হয়ে উঠছে 

অনলাইন ডেস্ক

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০

‘মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বরং রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরাই বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে’—এমন তত্ত্ব প্রচার করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রাখাইন বৌদ্ধদের ঘিরে আরো জোরালো সন্দেহ তৈরি করেছে মিয়ানমার সরকার। গত ২৫ আগস্টের সহিংসতার পর থেকে প্রবল বৈশ্বিক চাপের মুখে কঠোর সরকারি নজরদারিতে প্রথমবারের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার দেশি-বিদেশি কয়েকজন সাংবাদিককে রাখাইন রাজ্যের গাউদু জারা গ্রামে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। রোহিঙ্গাশূন্য সেই গ্রামে সাংবাদিকদের অবস্থানের সময়ই কে বা কারা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বার্তা সংস্থা এপি জানায়, সাংবাদিকরা ব্যাপকভাবে ভস্মীভূত ও বিধ্বস্ত যে পাঁচটি গ্রামে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন সেগুলোতে তাঁরা কোনো রোহিঙ্গা দেখতে পাননি। এ কারণে গতকালের ওই আগুন লাগানোর জন্য রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে না। আগুনের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া থেকে ছুটে এসে সাংবাদিকদের সামনে পড়া এক রাখাইন দ্রুত পালানোর আগে শুধু বলেন, পুলিশ ও রাখাইন বৌদ্ধরাই আগুন দিয়েছে।

অথচ সাংবাদিকরা সেখানে তাঁদের সফরসঙ্গী পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখতে পাননি। তাঁরা রামদা হাতে ১০ জন রাখাইনকে সেখানে দেখেছেন। সাংবাদিকদের সামনে পড়ে তারাও ছিল বিচলিত। একজন রাখাইন শুধু বলেছেন, তিনি মাত্রই এসেছেন। তাই আগুন কে দিয়েছে তা তিনি জানেন না।

গাউদু জারা গ্রামের এ ঘটনার আগে গত মঙ্গলবারই রোহিঙ্গা নিধন নিয়ে নীরবতা ভেঙে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি দাবি করেছিলেন, রাখাইনে সংঘাতের যে সব ছবি প্রচার করা হচ্ছে সেগুলোর সবই ভুয়া। সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিতেই নাকি এমনটি করা হচ্ছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে সারা বিশ্বে যখন তোলপাড় চলছে, তখন সে দেশের সরকারের দাবি সবই অপপ্রচার। সেটা প্রমাণ করতে গতকাল দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হয় রাখাইন রাজ্যে। কিন্তু ঘটে উল্টোটা। সাংবাদিকরা গিয়ে স্বচক্ষে দেখেন, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে এলাকা দাবড়ে বেড়াচ্ছে রাখাইনরা। ছবি : ইরাবতি ডট কম

কিন্তু সু চির ওই দাবি ইতিমধ্যে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সারা বিশ্ব রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয় দেখছে। এগুলো ‘গণহত্যা’ নাকি ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে তা নিয়ে বিশ্লেষকরা আইনি বিশ্লেষণ করছেন। কোন পরিস্থিতিতে গত ২৫ আগস্ট রাত থেকে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চলছে এবং দেড় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে বাংলাদশে আশ্রয় নিতে হয়েছে তার কোনো জবাব মেলেনি সু চির বক্তব্যে।

সু চি গতকাল আবার দাবি করেছেন, তাঁর সরকার রাখাইন রাজ্যের সবাইকে সুরক্ষা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে সেখানে মিয়ানমারের নাগরিক রাখাইন বৌদ্ধদের কথা বলেছেন। নাগরিকত্ববঞ্চিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

সংবাদ সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে সু চি বলেছেন, ‘আমাদের সব নাগরিকের দেখাশোনা করতে হবে। যারা এ দেশে আছে, তারা আমাদের নাগরিক হোক বা না হোক—তাদের সবার দেখাশোনা আমাদের করতে হবে। ’

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী যখন জাতিগত নিধন চালাচ্ছে তখন দায় অস্বীকার করা সু চির ওই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলেছে, সু চির সরকার ‘সবাইকে সুরক্ষা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে’ এটি কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

অ্যামনেস্টির দুর্যোগে সাড়া দেওয়া বিভাগের পরিচালক তিরানা হাসান রাখাইন পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘এটি মানবাধিকারের ও মানবিক বিপর্যয়। সংকটের পর প্রথম মন্তব্যেই অং সান সু চি রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করার বদলে ওই অঞ্চল থেকে পাওয়া ভয়াবহ খবরগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ’

সু চির নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা চলছে বিশ্বজুড়েই। আলজাজিরার অনলাইনে গতকাল এক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানিয়ান স্টাডিজ ও কম্পারেটিভ লিটারেচারের হ্যাভক কেভোরকিয়ান অধ্যাপক হামিদ দাবাশি লিখেছেন, “অং সান সু চি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য নন। গণহত্যায় ভয়াবহভাবে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তির ‘নোবেল বিজয়ী’ খেতাব থাকা উচিত নয়। ”

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গার বরাত দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে আর কোনো গ্রাম বাকি নেই, কেউ (রোহিঙ্গ) বাকি নেই।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়েই অধ্যাপক হামিদ দাবাশি লিখেছেন, বিশ্বখ্যাত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির কার্যকর নেতৃত্বে মিয়ানমারে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধনের খবর অবশেষে আজকাল যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ খবর হয়ে উঠছে।

১৯৯১ সালে নরওয়ের অসলোতে সু চির পক্ষে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করে তাঁর ছেলে আলেকজান্ডার এরিস আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় বলেছিলেন, শান্তির জন্য এ নোবেল পুরস্কারকে মিয়ানমারে সত্যিকারের শান্তি অর্জনের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে। সু চির হয়ে তিনি কথা দিয়েছিলেন, অতীতের শিক্ষা কখনো ভোলা যাবে না। তবে ভবিষ্যতের আশাকে আমরা উদ্‌যাপন করব। ’

সু চির নেতৃত্বে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা হলেও শান্তি ফেরেনি রাখাইনে। ২০১২ সালে সু চি ভারত সফরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ (বেঙ্গল, বর্তমান বাংলাদেশ থেকে যাওয়া) হিসেবে অভিহিত করে তাঁর রোহিঙ্গা নীতির আভাস দিয়েছিলেন। ঢাকা দফায় দফায় এর প্রতিবাদ জানানোর পর মিয়ানমার ‘বেঙ্গলি’ শব্দ ব্যবহার না করার আশ্বাস দিলেও বরাবরই তার বরখেলাপ করেছে।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না দিলেও নিজেদের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে ১৯৭৮-১৯৭৯ এবং ১৯৯১-১৯৯২ সালে দুই দফায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী প্রায় সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০০৫ সাল থেকে মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এককভাবে বন্ধ রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসামরিক সরকারকে সামনে রেখে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের নীতি গ্রহণ করেছে। আর এটি বাস্তবায়নে একের পর এক সহিংসতা ঘটাচ্ছে।

২৫ আগস্টের হামলা নিয়েও সন্দেহ : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতির উন্নয়নে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত আনান কমিশন গত ২৪ আগস্ট রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অবাধ চলাচলের সুযোগ প্রদানসহ মোট ৮৮ দফা সুপারিশ উত্থাপন করে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সন্ত্রাসী হামলার পটভূমিতে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ শুরুর পর সেই আনান কমিশনের সুপারিশগুলোই এখন আড়াল হতে চলেছে।

গতকাল রাখাইনের গাউদু জারা গ্রামে গিয়ে সাংবাদিকরা আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি মাদরাসা দেখতে পেয়েছেন। মাদরাসাটি আগুনে পুড়লেও পাশের মসজিদটি অক্ষত আছে।

সাংবাদিকরা আহ লে থান কাউ গ্রামে গিয়ে আগুনে পুড়ে কালো, পরিত্যক্ত ও নির্জন এলাকা দেখতে পেয়েছেন। ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মধ্যে গবাদি পশু ও কুকুর ঘোরাঘুরি করছিল।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা অং কিয়াউ মোয়ের দাবি, গত মাসে সহিংসতা শুরুর সময় সেখানে ১৮ জন নিহত হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষে একজন অভিবাসন কর্মকর্তা মারা যান। আর আমরা শত্রুপক্ষের (রোহিঙ্গা) ১৭টি মরদেহ পেয়েছি। ’ অং কিয়াউ আরো বলেন, গত ২৫ আগস্ট আগুন ধরিয়েছিল। সেগুলোর কিছু কিছু এখনো জ্বলছে। সাংবাদিকরা যেসব বাড়ি দেখেছেন সেগুলোর সবই পোড়া। বাদ যায়নি গাড়ি, সাইকেল ও মোটরসাইকেল। কেবল গ্রামবাসীরা প্রাণ নিয়ে পালিয়েছে। সেখানে একটি মসজিদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক দূর থেকে সেই অগ্নিশিখা দেখা ও গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, কারা আগুন দিয়েছে তাঁরা তা জানেন না। তবে যেহেতু গ্রামগুলোতে রোহিঙ্গারা ছিল তাই তারাই এটি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত সপ্তাহে একটি উপগ্রহ-চিত্র তুলে ধরে বলেছে, রোহিঙ্গা মুসলমান অধ্যুষিত একটি গ্রামেই সাত শতাধিক বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো গভীর উদ্বেগজনক। রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসলীলার মাত্রা আগে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি।

রাখাইন থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বলেছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীই জঙ্গি-সন্ত্রাসী আক্রমণের অভিযোগ তুলে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে। গুলিবিদ্ধ হয়েও অনেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

নতুন করে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা তিন লাখ ছাড়াতে পারে : জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করেছে, গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা তিন লাখ পর্যন্ত হতে পারে। এ জন্য জাতিসংঘ খাবার সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেছেন, মিয়ানমারে খুব নাজুক অবস্থায় থাকা তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য আসতে পারে। তবে সেখানে এখনো সামরিক অভিযান চলছে। সেখানে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় তথ্য পাওয়া কঠিন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার পর্যন্ত এক লাখ ৬৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে।

নাগরিকত্ব ছাড়া একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেবে না মিয়ানমার : রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর মিয়ানমার যে বিতাড়ন অভিযান চালাচ্ছে তার আরো ইঙ্গিত মিলেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থুয়াং তুনের কথায়। গত বুধবার তিনি নেপিডোতে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, যারা মিয়ানমার ছাড়ছে তাদের আবার ফিরতে হলে তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়ে ফিরতে হবে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে না। সন্ত্রাস দমনের নামে গণহত্যা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে। তারা যাতে আর ফিরতে না পারে সে জন্য সীমান্তে মিয়ানমার বাহিনী মাইন পুঁতেছে। এবার আবার তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ ছাড়া ফিরিয়ে না নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার তদন্ত ঠেকাতে মিয়ানমার চীন ও রাশিয়ার দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ওআইসি ও জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে ওই দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ। ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) মিয়ানমার পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাড রয়েস মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিকে পাঠানো চিঠিতে সতর্ক করে বলেছেন, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে সুরক্ষা দেওয়া সু চি ও তাঁর সরকারের দায়িত্ব। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতাকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই এটি বন্ধ করতে হবে।

সু চি ও সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে কানাডা : রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা থামাতে অং সান সু চি ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে কানাডা। দেশটির দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ওমর আলঘাবরা বলেছেন, কানাডা সরকার তার দেশের ‘সম্মানিত নাগরিক’ (অনারারি সিটিজেন) ও নোবেল শান্তি বিজয়ী সু চিকে সহিংসতা থামানোর উপায় খোঁজার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন অং সান সু চি। বর্তমানে তাঁর সরকারের নেতৃত্বেই দেশে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান জাতিগত নিধন অভিযান এবং তা আড়াল করতে মিথ্যাচার সারা বিশ্বে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্থলমাইন বিস্ফোরণের পর নৌকাযোগে অনুপ্রবেশ বাড়ছে : ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গত রাত ৯টার পর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের এক লাখ ৬৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার এলাকায় এসেছে। তাদের বেশির ভাগই খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। সীমান্তের মিয়ানমার অংশে স্থলমাইন বিস্ফোরণের খবরে নৌকাযোগেও রোহিঙ্গা আসছে। এর মধ্যে এক দিনেই রোহিঙ্গাদের নিয়ে ৩০০ নৌকা আসার খবর পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিন্স বলেন, ‘ছয় দিন পর্যন্ত হেঁটে ক্ষুধা ও অত্যন্ত ক্লান্তি নিয়ে লোকজন বাংলাদেশে ঢুকছে। তাদের খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। কক্সবাজারে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো ও বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) নতুন করে আসা ব্যক্তিদের চাহিদা মেটাতে সরকারকে সহায়তা করছে। ’

রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠাচ্ছে ইরান : আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য কার্গো ফ্লাইটে ত্রাণ পাঠাচ্ছে ইরান। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে শুকনো খাবার, ওষুধ ও কাপড় থাকছে। জানা গেছে, ইরান ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কাছে কার্গো ফ্লাইট পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে। এ সম্পর্কিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে আগামীকাল শনিবার ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছতে পারে। কালের কন্ঠ অনলাইন

Add a Comment