You are here: Home » আদালত » রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে সহযোগীতা করলে ফৌজদারী মামলা

রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে সহযোগীতা করলে ফৌজদারী মামলা 

images

অনলাইন ডেস্ক।।
৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রোহিঙ্গারা যেন কোনও অবস্থায় ভোটার হতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটার তালিকা হালনাগাদে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তথ্য যাচাই করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার হতে স্থানীয় কোনও বাংলাদেশি সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গারা যেন অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার ৩০টি উপজেলাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে এসব অঞ্চলে ভোটার হালনাগাদে ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এরমধ্যে কক্সবাজার ও রাঙামাটির ৮টি করে এবং বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ৭টি করে উপজেলা রয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব এলাকায় ভোটার হতে নাগরিকদের বিদ্যমান ভোটার ফর্মের সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ফরম পূরণ করতে হচ্ছে। সঙ্গে জমা দিতে হচ্ছে নাগরিকের বাবা-মায়ের পাশাপাশি চাচা-ফুফুর ভোটার আইডির অনুলিপিও। এছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এসব এলাকার নতুন ভোটারদের তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি ভোট ব্যাংক বাড়ানোসহ নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণে অবৈধভাবে অনেককে ভোটার হতে সহযোগিতা করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে জাল/ভুয়া জন্মসনদ ও নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ করে এবং ভুয়া বাবা-মা হিসেবে প্রক্সি নিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ভোটার হওয়ার চেষ্টা চালায়। চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় এটা আবারও ইসির নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। এ জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের অবৈধ সহযোগিতা যেন কেউ না পায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কোনও সহযোগিতার প্রমাণ পেলে মাঠ প্রশাসনকে বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও জনপ্রতিনিধি যেন অবৈধ কাজে জড়িত না হন, তার জন্য ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এছাড়া গত ২৬ আগস্ট চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী সংশ্লিষ্ট ৩০টি উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। বাংলাদেশিদের মা-বাবা সাজিয়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করা হচ্ছে বলেও সভায় অভিযোগ উঠে আসে। শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার খবর জেনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কোনও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সহযোগিতার প্রধান পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন।

নির্বাচন কমিশন গত ২৫ ‍জুলাই থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ২৫ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে নিবন্ধন কার্যক্রম। তিন ধাপের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হবে আগামী ৫ নভেম্বর। চলমান নিবন্ধন কার্যক্রমের সময় নিবন্ধন কেন্দ্র গিয়ে কিংবা চলতি বছরের শেষ সময় পর্যন্ত যে কেউ চাইলে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নতুন ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সোমবার বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা আগেই দেওয়া যেন যেসব রোহিঙ্গা আসতেছে বা আগে থেকে রয়েছে তারা যেন কোনোভাবেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে। গত ২৬ আগস্ট চট্টগ্রামে সার্কিট হাউসে ডেকে আবারও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা বলেছি, কেউ এটা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রতিবারই রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবার বিশেষ এলাকার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আরও কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ওই এলাকার জন্য নাগরিকের পূর্বপুরুষের ধারাবাহিকতা জানতে একটি অতিরিক্ত ফরম পুরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘অনেক সময় কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি তার নিজের স্বার্থে অবৈধ রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। এবারও এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এজন্য আমরা মাঠ প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে এ ধরনের অবৈধ সহযোগিতাকারী তিনি জনপ্রতিনিধি হোন বা যেকোনও ব্যক্তি হোন, তার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা হালনাগাদ আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা করতে নির্দেশ দিয়েছি।’ সূত্রধ: বাংলা ট্রিবিউন

Add a Comment