You are here: Home » খেলা-ধুলা » অস্ট্রেলিয়াকেও টেস্টে হারালো বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়াকেও টেস্টে হারালো বাংলাদেশ 

1504161685

৩১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়াকেও টেস্টে হারালো বাংলাদেশ
আশা-নিরাশার দোলাচলে শুরু হয়েছিল দিন। সাকিব আল হাসানের বোলিং জাদুতে দৃশ্যমান হয় জয়ের ছবি। শেষ দিকে প্যাট কামিন্সের দুই ছক্কা কাঁপন ধরিয়েছিল সবার মনে। হ্যাজেলউড তাইজুলের শিকার হতেই অবসান হয় সব অনিশ্চয়তার। ভর দুপুরের ঠা ঠা রোদে মিরপুরের গ্যালারিতে আনন্দের ঢেউ। প্রেসিডেন্ট বক্সে লাল-সবুজের পতাকা হাতে খুশিতে আটখানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাঠে বুনো উল্লাসে মত্ত তখন মুশফিক-তামিমরা।

সাদা পোশাকে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা অব্যাহত থাকলো। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার আট উইকেট তুলে নেওয়ার চ্যালেঞ্জে জিতলেন সাকিব-তাইজুলরা। টেস্টে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ও তামিম ইকবালের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ভর করে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল মুশফিক বাহিনী।

এগারো বছর (২০০৬ সালে) আগে ফতুল্লায় সুযোগ পেয়েও রিকি পন্টিংয়ের দলকে হারাতে পারেনি হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। গতকাল মুশফিক বাহিনী ঘুচিয়ে দিল ফতুল্লার সেই আক্ষেপ। ম্যাচের পর অধিনায়ক মুশফিকও বলেছেন, এই ঐতিহাসিক জয়ই দেশবাসীর জন্য টাইগারদের ঈদ উপহার।

বাংলাদেশের ২৬০ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া করেছিল ২১৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২১১ রান করে স্বাগতিকরা। ২৬৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে গতকাল ২৪৪ রানে থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। দুই ইনিংসে সব মিলিয়ে ৮৯ রান ও ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব।

অনেকটা বলে-কয়ে, ঘোষণা দিয়েই অস্ট্রেলিয়াকে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পাইয়ে দিল বাংলাদেশ। বহুল প্রতীক্ষিত টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় সম্ভব। এমনকি ২-০ তেও সিরিজ জয়ের আশাবাদ জানিয়েছিলেন তারা। প্রত্যাশার প্রথম ধাপ গতকাল মিরপুরে সফলভাবে সমাপ্ত করেছেন টাইগাররা।

ইংল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়া— দেশের মাটিতে টানা দুই টেস্টে জয়ের গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। দশম টেস্ট জয়ে বড় অবদান সাকিব-তামিমের। ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্টে ব্যাটে-বলে দুর্দমনীয় পারফরম্যান্সে দেশকে জয়ের আনন্দে ভাসালেন তারা।

তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটিং ঝড়ে দিক হারিয়েছিল বাংলাদেশের জয়ের মিশন। গতকাল সকালেও যার রেশ বিদ্যামান ছিল। তবে শেষ অব্দি বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করলো অস্ট্রেলিয়া। এদিন ৪০.৫ ওভার ব্যাট করে শেষ আট উইকেটে ১৩৫ রান তুলতে সমর্থ হয় সফরকারীরা।

দিনের শুরুতে বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে এগুচ্ছিল ওয়ার্নার-স্মিথের জুটি। ১২১ বলে ওয়ার্নার তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৯তম টেস্ট সেঞ্চুরি। উপমহাদেশে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। দিনের ১২তম ওভারে এসে স্বস্তির উপলক্ষ পায় বাংলাদেশ। সাকিবের বলে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন ওয়ার্নার। তিনি ১১২ রান (১৬ চার, ১ ছয়) করেন। ওয়ার্নার-স্মিথের ১৩০ রানের জুটি ভাঙার পরই ম্যাচের চিত্রপট বদলাতে থাকে। ওয়ার্নারের বিদায়ের সময় জয় থেকে ১০৬ রান দূরে ছিল সফরকারী দল।

গলার কাঁটা হয়ে থাকা স্মিথকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং মেরুদণ্ড গুড়িয়ে দেন সাকিবই। মুশফিকের কাছে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৭ রান করেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। এরপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। সাকিব-তাইজুলের ঘূর্ণিতে ১২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। হ্যান্ডসকম্বকে (১৫) ক্যারিয়ারের ৫০তম শিকার বানান তাইজুল। ম্যাথু ওয়েডকে (৪) উইকেটে স্থায়ী হতে দেননি সাকিব। অ্যাগার (২) ক্যাচ তুলে দেন তাইজুলের হাতে।

সাত উইকেটে ১৯৯ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় অস্ট্রেলিয়া। লাঞ্চের পরই ম্যাক্সওয়েলকে (১৪) বোল্ড করে পঞ্চম উইকেট তুলে নেন সাকিব। নবম উইকেটে লিঁও-কামিন্স কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। মিরাজের শিকার হয়ে ফিরেন লিঁও (১২)। কামিন্স এক প্রান্তে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকলেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরির পরও ব্যাটিংয়ে আসা হ্যাজেলউডকে আউট করে বাংলাদেশের অসাধারণ জয় নিশ্চিত করেন তাইজুল। গতকাল সকাল থেকে একপ্রান্তে টানা ২০ ওভার বোলিং করেছেন সাকিব। বাঁহাতি এ স্পিনার ৮৫ রানে পাঁচ উইকেট নেন। তাইজুল তিনটি, মিরাজ দুটি উইকেট পান।

Add a Comment