You are here: Home » আজকের সংবাদ » সরগরম পশুর হাট

সরগরম পশুর হাট 

e80

জনমত.কম,
আগষ্ট ৩০ ২০১৭

নগরের অন্যতম বড় পশুর বাজার বিবির হাটে ক্রেতার ভিড়। ছবিটি গতকাল বিকেল পাঁচটায় তোলা l জুয়েল শীলঈদের বাকি আর তিন দিন। নগরের আটটি পশুর হাটই এখন বেচাকেনায় সরগরম। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গরুতে ভর্তি এসব হাট। তবে হাটে পশুর অভাব না থাকলেও ব্যাপারীরা গতবারের তুলনায় বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন বলে জানান ক্রেতারা। ব্যাপারীরাও এই অভিযোগ অস্বীকার করেননি।

হাট বসার তিন-চার দিন পরে বেচাকেনা জমে ওঠায় ব্যাপারীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। হাটে এখন দর্শনার্থীর চেয়ে ক্রেতার সংখ্যা বেশি বলে জানালেন বিক্রেতারা। চট্টগ্রামের বিবির হাটে কুষ্টিয়া থেকে পশু নিয়ে আসা ব্যাপারী মোহাম্মদ হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘৪০টি গরু নিয়ে শুক্রবার হাটে এসেছি। প্রথম তিন-চার দিন হাটে কয়েকজন আসলেও দরদাম করে চলে গেছেন। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ (মঙ্গলবার) হাটে লোকজন বেশি এসেছেন। গরুও বিক্রি করেছি তিনটি। বাকিগুলোও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি।,

নগরের সাগরিকা ও বিবির হাট স্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদাররা মূল হাটের আশপাশের খালি জায়গাতেও বাজার বসিয়েছেন। ত্রিপল দিয়ে ঢাকা এসব স্থানে গরু রাখার জন্য বাঁশের খুঁটিও পোঁতা হয়েছে। এসব স্থানে হাসিল আদায় ও নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করেছেন ইজারাদাররা।

বিবির হাটের ইজারাদার মো. জামশেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারীরা। হাটে এখন পশুর অভাব নেই। ক্রেতাও আছেন প্রচুর।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিবির হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, মানুষের ভিড়ে হাটের ভেতরে দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। হাটের প্রবেশ রাস্তায়ও একই অবস্থা। হাটের এক পাশে ট্রাক থেকে নামানো হচ্ছে গরু। এসব গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাটের ভেতরে। এই দৃশ্য দেখতে সেখানে ভিড় করেছে শিশু-কিশোরেরা। অনেকে হাটে ঘুরে ঘুরে গরু দেখে ব্যাপারীদের সঙ্গে দরদাম করছেন। দামে মিললে কিনে নিচ্ছেন। হাটে জায়গা না পেয়ে অনেক বিক্রেতা গরু নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়।

অক্সিজেন থেকে ছেলেকে নিয়ে এসেছিলেন ব্যবসায়ী আজাদ হোসেন। কুষ্টিয়ার এক ব্যাপারীর কাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় গরু কেনেন।তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আর কয়েক দিন পরেই কোরবানির ঈদ। এর মধ্যে ব্যবসায়িক ব্যস্ততা রয়েছে। তাই আজ (মঙ্গলবার) নিয়ে নিলাম।’

নগরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট সাগরিকায় এখনো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু আসছে। বিক্রিও থেমে নেই। হাটে আসা লোকজনের কেউ গরু দেখছেন। কেউ গরু নিয়ে হাসিল পরিশোধ করে ফিরে যাচ্ছেন। ষাটোর্ধ্ব জব্বার ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, গত শুক্রবার কুড়িগ্রাম থেকে ২৪টি গরু নিয়ে এসেছেন। মঙ্গলবার পাঁচটি গরু বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার সাইফুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় মঙ্গলবার অনেক বেশি বিক্রি হয়েছে।

নগরের দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে সাগরিকা হাটে গরু দেখতে আসেন মোহাম্মদ হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যাপারীরা বেশি দর চাইছেন। নগরের আরও দু-একটি হাট ঘুরে দেখব। তারপর বুধবারের দিকে গরু কেনার ইচ্ছে রয়েছে।’

হালিশহর থেকে আসা মোহাম্মদ আলী নামের আরেক ক্রেতা বলেন, গত বছর যে গরু বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার টাকায়। এবার তার দাম রাখা হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা।

ব্যাপারীরাও এই অভিযোগ অস্বীকার করেননি। সাগরিকা হাটের ব্যাপারী আবদুর রব ও মো. আজিজ বলেন, পশুর খাবারের দাম ও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ায় এবার গরুর দাম বেড়েছে।

Add a Comment