You are here: Home » সাহিত্য » এসো বই পড়ি, জীবন গড়ি

এসো বই পড়ি, জীবন গড়ি 

৩০ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
মো. জাহানুর ইসলাম

জ্ঞান মানেই হচ্ছে শিক্ষা। আর বই হচ্ছে শিক্ষার বাহন। সুতরাং যতই বইয়ের লিখন, প্রকাশন ও বিপণন বাড়বে ততই আলোর রাজ্যেরও বৃদ্ধি ঘটবে। এজন্য ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে বই পড়তে হবে। বই পড়তে হলে বই কিনতে হবে। কিন্তু বাঙালিদের বই কেনার প্রতি বড়ই অনীহা, বই ধার দিতে চাইলেও পড়তে চায় না, যেন বই পড়ার সময় নেই তাদের। তবে অকাজে সময় ব্যয় করতে বিশেষজ্ঞ। বিদ্যাচর্চার চেয়ে অর্থচর্চায় বেশি মনোযোগী।

বই না পড়ার ফলে অসংস্কৃত, অমার্জিত লোকজনের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আর কমে যাচ্ছে রুচিশীল, সংবেদনশীল, হূদয়বান মানুষ। তরুণরা ঝুঁকে পড়ছে জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন খারাপ কাজের প্রতি, যা উন্নত রাষ্ট্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরাট হুমকি।

তরুণ সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে বাঁচাতে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। জীবনকে বুঝতে হলে বেশি বেশি বই পড়তে হবে। কেননা বই আমাদের মনের দরজা খুলে দেয়। কল্পনা শক্তি ও চিন্তা শক্তি প্রসারিত করে। একটি ঘটনাকে বিভিন্ন রকম ভাবে দেখার ক্ষমতা বাড়ায়। বই পড়ার অভ্যাস অনেক বদ অভ্যাসকে প্রতিহত করে।

দেখা গেছে, আগেরকার তুলনায় বর্তমানে বই পড়া তরুণ-তরুণীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তারা বই পড়ার পরিবর্তে ফেসবুক, টুইটার বা টিভি সিরিয়ালে অভ্যস্ত। আর এসব কারণে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত, বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তাদের পুনরায় আলোর পথে নিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

সৈয়দ মুজতবা আলী বলেন, ‘সংসারে জ্বালা-যন্ত্রণা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে মনের ভেতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেয়া এবং বিপদকালে তার ভেতর ডুব দেয়া। যে যত বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, যন্ত্রণা এড়াবার ক্ষমতা তার ততই বেশি হয়।’ একমাত্র বই-ই পারে এই ভুবন তৈরি করতে। আর বই মানুষের মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করে, সুন্দর ও শুভ চিন্তার কথা বলে, মনের স্বপ্ন জাগিয়ে তোলে, জ্ঞানের আনন্দের স্পর্শেই মানুষের মনপ্রাণ সজীব, সতেজ ও আলোকিত হয়ে ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Add a Comment