You are here: Home » বৃহত্তর কুমিল্লা » তরুণ প্রজন্ম নিজেকে জানো : প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ কুমিল্লা আজও ঐতিহ্যের স্বকীয়তায় প্রবাহমান

তরুণ প্রজন্ম নিজেকে জানো : প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ কুমিল্লা আজও ঐতিহ্যের স্বকীয়তায় প্রবাহমান 

210

জনমত.কম
২৭ আগষ্ট ২০১৭
মুজিবুর রহমান মুকুল

ভৌগেলিকভাবে কুমিল্লার উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, দক্ষিণে নোয়াখালী ও ফেনী, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা এবং পশ্চিমে মুন্সীগঞ্জ , চাঁদপুর জেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা। এই জেলাটির আয়তনঃ ৩০৮৭.৩৩ বর্গ কিলোমিটার। ভারতের সাথে এই জেলার ১০৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

শিক্ষা-শিল্প-সাহিত্য- সংস্কৃতির পাদপীঠ কুমিল্লা প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে এ উপমহাদেশে সুপরিচিত। কুমিল্লার খাদি শিল্প, তাঁত শিল্প, কুটির শিল্প, মৃৎ শিল্প ও কারু শিল্প, রসমালাই, মিষ্টি, ময়নামতির শীতল পাটি ইত্যাদি স্ব-স্ব ঐতিহ্যে স্বকীয়তা আজও বজায় রেখেছে। কালের বিবর্তনের ধারায় এসেছে অনেক কিছু, অনেক কিছু গেছে হারিয়ে, হারায়নি এখানকার মানুষের আন্তরিকতাপূর্ণ আতিথেয়তা ও সামাজিক সম্প্রীতি।

কুমিল্লা একসময় বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। ১৭৩৩ সালে বাংলার নবাব শুজাউদ্দিন ত্রিপুরা রাজ্য আক্রমণ করে এর সমতল অংশ সুবে বাংলার অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ত্রিপুরা দখল করে। । ১৭৯০ সালে কোম্পানী শাসনামলে ত্রিপুরা নামের জেলার সৃষ্টি। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা থেকে আলাদা করে কুমিল্লা কে জেলা হিসেবে তৈরি করা হয়।

১৭৬৫ সালে এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অধীনে আসার পূর্বে মধ্যবর্তী সময়ে মোঘলদের দ্বারা শাসিত হয়েছে কুমিল্লা। ১৭৬৯ সালে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে কোম্পানী একজন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করে। তখন ঢাকা প্রদেশের অন্তর্গত ছিলো কুমিল্লা । কুমিল্লাকে ১৭৭৬ সালে কালেক্টরের অধীনস্থ করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে ত্রিপুরা জেলার নামকরণ করা হয় কুমিল্লা এবং তখন থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর পদটির নামকরণ জেলা প্রশাসক করা হয় । ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার দু’টি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লা ২ নং সেক্টর এর অন্তর্গত ছিল। ঢাকা, ফরিদপুরের কিছু অংশ, নোয়াখালী ও কুমিল্লা নিয়ে গঠিত হয়েছিল ২নং সেক্টর। এ সেক্টরের নেতৃত্ব দেন- মেজর খালেদ মোশাররফ (১০ এপ্রিল, ১৯৭১- ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১), মেজর এ.টি.এম. হায়দার (২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)।

কুমিল্লার মাটি জন্ম দিয়েছে অনেক গুণী জ্ঞানী শিক্ষাবিদ, সাধক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। যাদের জন্যে কুমিল্লার মাটি আজও সারা পৃথিবীর কাছে পথিকৃৎ কুমিল্লা হিসেবে মাথা উচু করে বেচে আছে। গণ পরিষদ সদস্য ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শিক্ষাবিদ অজিত কুমার গুহ, বাংলাগানের কিংবদন্তী শচীন দেব বর্মণ, বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা আখতার হামিদ খান, গণপরিষদ সদস্য একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বাংলাদেশের ১৪তম রাষ্ট্রপতি), ঢাবি উপাচর্য ফজলুল হালিম চৌধুরী, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আবুল হাসেমসহ অনেকেই কুমিল্লাকে আলোকিত করেছেন স্বমহিমায়।
চলমান সময়ে এসে কুমিল্লার ঐতিহ্য ধরে রাখা নিয়ে নানান জনের নানান প্রশ্ন রয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সব সরকারের আমলেই কুমিল্লার ২/৪জন সদস্য স্থান করে নিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। বর্তমান সরকারের রয়েছে কুমিল্লার কৃতি সন্তান আহম লোটাস কামাল, পরিকল্পনা মন্ত্রী, মুজিবুল হক মুজিব রেথপথ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী।

বর্তমানে দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের উপাচার্য্যদের মধ্যে ৬জনই কুমিল্লার গর্বিত সন্তান
১) অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান
উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
২) অধ্যাপক ড. আলী আশরাফ
উপাচার্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
৩) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহম্মেদ
উপাচার্য, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

৪) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
উপাচার্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৫) অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ
উপাচার্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
৬) অধ্যাপক ড. আল- নকীব চৌধুরী
উপাচার্য, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এগিয়ে যাক কুমিল্লা ঐতিহ্যের স্বকীয়তায় । তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে কুমিল্লার ইতিহাস। নিজের ইতিহাস ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিতে হবে এ প্রজন্মের সন্তানদেরই।

তথ্যসূত্র : https://bn.wikipedia.org/wiki

Add a Comment