You are here: Home » চাকুরি » চাকরি পেতে যে প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে

চাকরি পেতে যে প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে 

6

বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে যেমন বেতন, তেমনি সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু তার আগে আপনাকে পার হতে হবে সাক্ষাৎকারের একটি ধাপ। আপনাকে একটি প্রশ্ন করা হবে। যার উত্তর ঠিকঠাক দিতে পারলেই চাকরি পাকা। এ প্রশ্ন করেন প্রযুক্তি দুনিয়ার উদ্যোক্তা, সফল প্রতিষ্ঠাতারা। তাঁদের মধ্য আছেন এলন মাস্ক, রিচার্ড ব্র্যানসন, ল্যারি অ্যালিসনের মতো সফল মানুষ। অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করার অভ্যাস তাঁদের নেই। প্রিয় কয়েকটি প্রশ্ন আছে তাঁদের, যা প্রায় সময় সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞাসা করেন। তাঁদের সামনে সাক্ষাৎকার দিতে এসে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হয়, তা দেখে নিন।

এলন মাস্কএলন মাস্ক
টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী এলন মাস্কের বায়োগ্রাফি ‘এলন মাস্ক: টেসলা, স্পেসএক্স, অ্যান্ড দ্য কোয়েস্ট ফর আ ফ্যান্টাস্টিক ফিউচার’-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি চাকরিপ্রার্থীর বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা করতে একটি ধাঁধা দেন। ধাঁধাটি হচ্ছে, ধরুন, আপনি পৃথিবীপৃষ্ঠের ওপর দাঁড়ানো। আপনি দক্ষিণে এক মাইল হাঁটলেন। এক মাইল পশ্চিমে হাঁটলেন। এক মাইল উত্তরে হাঁটলেন। আপনি যেখানে শুরু করেছিলেন ঠিক সেখানেই শেষ করলেন। আপনি কোথায়? এর একাধিক সঠিক উত্তর হতে পারে। এর একটি উত্তর হতে পারে উত্তর মেরু।

টনি সেইটনি সেই
জাপ্পোসের প্রধান নির্বাহী টনি সেই। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হচ্ছে কিছুটা অদ্ভুত ধরনের মজা করা। সঠিক কর্মী খুঁজে নিতে সেই একটি প্রশ্ন করেন। তাঁর প্রশ্ন, ১ থেকে ১০-এর স্কেলে আপনি কতটা অদ্ভুত? সেই বলেন, প্রশ্নটির উত্তরের সঙ্গে নম্বর গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে প্রার্থী কীভাবে উত্তর দেন, তা যাচাই করা জন্য এই প্রশ্ন। কেউ যদি নিজেকে ১ নম্বর দেন, তবে তিনি জাপ্পোর সংস্কৃতি অনুযায়ী বেশি সোজাসাপ্টা। আর যদি কেউ ১০ নম্বর দেন, তবে তিনি বেশি মনোবিকারগ্রস্ত। সেই আরও একটি প্রশ্ন করেন। তা হলো, ১ থেকে ১০-এর মধ্যে জীবনে ভাগ্যবান হিসেবে নিজেকে কত নম্বর দেবেন? এ ক্ষেত্রেও উত্তরে সংখ্যাটি খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। তবে যদি কেউ ১ নম্বর দেন, তবে তিনি নিজের সঙ্গে খারাপ হওয়ার কারণটি জানেন না। অর্থাৎ অন্যদের দোষ দেন বেশি। আর ১০ নম্বর দিলে নিজে কেন ভাগ্যবান, তা বোঝেন না। অর্থাৎ আপনার আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি আছে।

ল্যারি অ্যালিসনল্যারি অ্যালিসন
ওরাকলের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ল্যারি অ্যালিসন সম্পর্কে ডর্থমাউথের ব্যবসাবিষয়ক অধ্যাপক সিনডি ফিনকেলস্টেইন তাঁর ‘সুপারবসেস’ বইতে লিখেছেন, দুর্দান্ত বুদ্ধিমান ও মেধাবী কর্মী নিয়োগে ল্যারি অ্যালিসন প্রায়ই একটি প্রশ্ন করেন। প্রশ্নটি হলো, আপনার জানামতে আপনিই কি স্মার্ট ব্যক্তি? উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সরাসরি চাকরি পেয়ে যাবেন। যদি না হয়, তবে দ্বিতীয় প্রশ্ন হবে, আপনার চোখে স্মার্ট ব্যক্তি কে? ল্যারি অ্যালিসন তখন সেই স্মার্ট ব্যক্তিকে খুঁজে বের করেন। ফিনকেলস্টেইন বলেন, এলিসনের মতো বস নিজের সক্ষমতার ওপর অনেক আত্মবিশ্বাসী হন। ফলে আরেক কর্মী তাঁকে ছাড়িয়ে যাবেন, এমন দুশ্চিন্তা তাঁর মধ্যে কাজ করে না। তাই কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি বুদ্ধিমান ও চ্যালেঞ্জ ছুড়তে সক্ষম, এমন কর্মী পছন্দ তাঁর।

লরি গোলেরলরি গোলের
ফেসবুকের মানবসম্পদ কর্মকর্তা লরি গোলের প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ধরুন, কাজের ক্ষেত্রে আপনার সেরা দিনটি চলে গেল। সেদিন বাড়িতে গিয়ে ভাবলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো চাকরিটা আপনি পেয়েছেন। ওই দিনটা কীভাবে কাটাবেন? এই প্রশ্নের উত্তর শুনে কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হয়।

পিটার থায়েলপিটার থায়েল
পেপ্যালের সহপ্রতিষ্ঠাতা পিটার থায়েল সাহসী ও মনের কথা স্বচ্ছন্দে বলতে পছন্দ করেন, এমন কর্মী নিয়োগ দেন। তিনি প্রায়ই চাকরিপ্রার্থী ও বিনিয়োগপ্রত্যাশী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করেন। তাঁর প্রশ্নটি হলো, এমন কিছু বলতে পারবেন, যা সত্যি হবে, কিন্তু সে বিষয়ে কেউ আপনার সঙ্গে একমত নয়? এ প্রশ্ন করার বিষয়ে ফোর্বসকে এক সাক্ষাৎকারে পিটার থায়েল বলেছিলেন, এটা চিন্তার নিজস্বতা পরীক্ষার একটি উপায়। এ ছাড়া এতে অনেক সময় কথা বলার সাহস পরীক্ষা করে দেখা যায়।

রিচার্ড ব্র্যানসনরিচার্ড ব্র্যানসন
ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন তাঁর নতুন বই ‘দ্য ভার্জিন ওয়ে: এভরিথিং আই নো অ্যাবাউট লিডারশিপ’ প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি প্রচলিত সাক্ষাৎকার পদ্ধতি খুব বেশি পছন্দ করেন না বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, একটি ভালো সিভি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে সিভি দেখেই কাউকে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে নন তিনি। এ জন্য তিনি সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করেন, আপনার জীবনবৃত্তান্তে কোন বিষয়টি যুক্ত করার সুযোগ পাননি?

ড্রিউ হাউসটনড্রিউ হাউসটন
ড্রপবক্সের প্রতিষ্ঠাতা ড্রিউ হাউসটন ৩৩ বছর বয়সী কোটিপতি। নিউইয়র্ক টাইমসের অ্যাডাম ব্রায়ান্টকে এক সাক্ষাৎকারে ড্রিউ হাউসটন বলেন, চাকরিপ্রার্থীকে ৫টি প্রশ্ন করেন তিনি। এগুলো হচ্ছে: ১. তোমার পেশায় তোমার চোখে সেরা কে? ২. কারা তোমাকে প্রভাবিত করে? ৩. গত বছর তুমি কী শিখেছ? ৪. ১০ বছর আগের তোমাকে তুমি নিজে কি পরামর্শ দেবে? ৫. এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়টি শিখেছ? প্রশ্নগুলোর উত্তর দেখে তিনি বুঝে নেন প্রার্থীর ক্রমাগত উন্নতির ধরন।

তথ্যসূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Add a Comment