You are here: Home » খেলা-ধুলা » দলবদলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন, কীভাবে

দলবদলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন, কীভাবে 

4

চুক্তি চূড়ান্ত, এখন মেডিকেলের অপেক্ষা’। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের ট্রান্সফার বাজারে বহু পরিচিত কথা। ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় টাকাপয়সার ব্যাপারগুলো চূড়ান্ত হয়ে নিয়ে দুটি ক্লাব ঐকমত্য, খেলোয়াড় নিজেও তাঁর পারিশ্রমিক নিয়ে সন্তুষ্ট, চুক্তি পাকা করে আর্থিক ভাগ পাচ্ছেন তার এজেন্টও; কিন্তু তারপরও চুক্তি পাকা নয়! ট্রান্সফারের শেষ ধাপটি যে তখনো বাকি। মেডিকেল পরীক্ষাই সেই শেষ ‘পরীক্ষা’, যেখানে উতরে গেলেই কেবল আলোর মুখ দেখবে চুক্তি, নতুবা নয়।
বছরে দুটি নির্দিষ্ট মেয়াদে খেলোয়াড়েরা দলবদল করে থাকেন। ট্রান্সফারের এ মৌসুম একেক দেশে একেক রকম। ইংল্যান্ডে যেমন প্রাক-মৌসুম ট্রান্সফারে মৌসুম ৯ জুন থেকে ৩১ আগস্ট। এ ছাড়া রয়েছে মৌসুমের মাঝপথে খুব অল্প সময়ের জন্য ট্রান্সফার উইন্ডো খোলা হয় ইংলিশ ফুটবলে। সেটা ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে প্রাক-মৌসুম ট্রান্সফারের মেয়াদ ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত, মৌসুমের মধ্যবর্তী ট্রান্সফার উইন্ডো ১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি। যাই হোক, এ দুটি ট্রান্সফার উইন্ডোয় দলবদল করে থাকেন খেলোয়াড়েরা। যে ক্লাব খেলোয়াড়টিকে কিনছে, ওই খেলোয়াড়কে সেই ক্লাবেই দিতে হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
ফুটবলের বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায়, যার ওপর বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তার শারীরিক ফিটনেস যাচাই করে নেওয়ার ব্যাপারটি খুবই স্বাভাবিক। অর্থাৎ যে খেলোয়াড়কে কেনা হচ্ছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা খুঁটিয়ে দেখে নিতে চায় ক্লাব। বিনিয়োগ করা অর্থ যেন জলে না পড়ে, এ ভাবনা থেকে খেলোয়াড়টির চোট আছে কি না, তা দেখা হয়। ‘ক্লোজড ডোর’ এই পরীক্ষায় ডাক্তার এবং ফিজিওদের সামনে কয়েক ধাপের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় একজন খেলোয়াড়কে। অবশ্য খেলোয়াড়টি কোন পজিশনের, সে অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা হয়। সব ক্লাব আবার এ পরীক্ষা একভাবে করে না। ক্লাবভেদে এটার পার্থক্য থাকতে পারে। টটেনহাম হটস্পারসের সাবেক মেডিকেল টিম প্রধান ডা. শার্লট কোয়ি জানান, প্রথম ধাপে খেলোয়াড়টির অতীত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ইতিহাস দেখা হয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত খেলোয়াড়টিকে কিছু প্রশ্ন করা হয় এবং কিছু পরীক্ষা করান ফিজিওরা। এরপর এমআরই স্ক্যান, এক্স-রে এবং কঙ্কালতন্ত্রও পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হলেও ক্ষেত্রবিশেষে আরও কিছু পরীক্ষা করানো হয়। খেলোয়াড়টির ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের ফিটনেস এবং মাংশপেশির সম্প্রসারণ ক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়।
কোয়ি আরও জানান, ফুটবলারদের সাধারণত হাঁটুর নিচ থেকে চোটের প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া কোমর এবং কুঁচকিতেও চোট পেয়ে থাকেন তাঁরা। এসব জায়গা খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়। খেলোয়াড়টি এসব ক্ষেত্রে কোনো আঘাত লুকোচ্ছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হয়। খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বের ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য পরীক্ষার শেষ ধাপ হলো ল্যাব টেস্ট। ২০১৪ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের মেডিকেল স্টাফ স্টিভ কেম্প জানান, ল্যাব টেস্টে সবার আগে খেলোয়াড়ের পায়ের শক্তি পরীক্ষা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ‘আইসোকাইনেটিকস’ মেশিন তাঁর শরীরে লাগিয়ে পরিমাপ করা হয় পায়ের শক্তি। দৌড়ানোর সময় নির্দিষ্ট কোনো পায়ে বেশি শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, দেখা হয় সেটিও। নির্দিষ্ট কোনো পায়ে বেশি শক্তি প্রয়োগ করা হলে, খেলোয়াড়টির চোটে পড়ার আশঙ্কা বেশি। ল্যাব টেস্টের পরবর্তী ধাপ ভিও-২ ম্যাক্স টেস্ট। এ পরীক্ষায় খেলোয়াড়ের মুখে একটি ইনহেলার পরানো হয়, দৌড়ানো অবস্থায় তাঁর অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন নির্গমন ক্ষমতা দেখার জন্য। এরপর ল্যাব টেবিলে খেলোয়াড়কে শুইয়ে তাঁর শরীরের প্রতিটি সংযোগস্থল পরীক্ষা করে দেখা হয়। এ প্রসঙ্গে স্টিভ কেম্প বলেন, ‘আমরা তাঁর গোড়ালি, হাঁটু, পায়ের পাতা, কোমর এবং মেরুদণ্ড পরীক্ষা করে থাকি, গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে এটা আরও গুরুত্বপূর্ণ।’
খেলোয়াড় এসব পরীক্ষায় উতরে গেলে ডাক্তারের কাজ হলো এসব পরীক্ষার ফল নিয়ে দলের কোচের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো। এসব প্রতিবেদন সাধারণত কয়েক শ পৃষ্ঠার হয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। কেম্প বলেন, ‘খেলোয়াড়ের কাছ থেকে যত বেশি সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাবের বিনিয়োগটাকে টেকসই করতে এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।’

Add a Comment