You are here: Home » জেনেটিক নিউজ » ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী বিশ্বব্যাপী সমাধৃত – শিবের বাজারে পথ সভায় অধ্যক্ষ মুকুল

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী বিশ্বব্যাপী সমাধৃত – শিবের বাজারে পথ সভায় অধ্যক্ষ মুকুল 

BANGL

১৪ জুলাই ২০১৭ খ্রি.
।। ফেরদেসি রুনা ।।জনমত.কম ।।

১১ জুলািই মঙ্গলবার বিকালে পাঁচথুবী ইউনিয়নের শিবেরবাজার-এ জেনেটিক পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত র‌্যালি ও পথসভায় বক্তারা বলেন, এসএসসি’র পর মাত্র ৪বছর পড়াশোনা করে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের দেশ ও বিদেশের কর্মবাজারে অত্যাধিক মূল্যায়ন রয়েছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশল সনদপত্র দিয়ে দেশ-বিদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংসহ উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষায় জনসচেতনা বৃদ্ধিও লক্ষ্যে জেনেটিক পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের মাসব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১জুলাই বিকালে শিবের বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনতাহার মিয়া। সভায় প্রধান বক্তা জেনেটিক পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান মুকুল বলেন, জনসচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে বেকারত্বের হার লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জাতীয় সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত তথ্যমতে, গতানুগতিক শিক্ষায় অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রীধারী ৪৭% শিক্ষার্থী বেকার জীবন যাপন করছে। অন্যদিকে কারিগরি বিষয়ে দক্ষ জনবলের অভাবে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শুন্য পদে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তাই, সরকার আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের প্রধান হাতিয়ার হিসাবে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনা করছে। সরকারের ম্যাসেজ গুলো তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে আনোয়ারা মতিন এডুকেশন ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় জেনেটিক পলিটেকনিক মাসব্যাপী ইউনিয়য়ন ভিত্তিক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহন করেছে। যারমধ্যে পথসভা, র‌্যালি, উঠান বৈঠক, মাইকিং, হ্যান্ডবিল বিতরণ, ফ্রি ওয়ার্কশপ, ফ্রি সেমিনার ইত্যাদি। তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার সুফল পাঁচথুবী ইউনিয়নে ছড়িয়ে দিতে আপনাদের কৃতি সন্তান অধ্যাপক মো. ইছহাক ভুইয়া শিবের বাজারে পথসভা ও র‌্যালির সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রদান, অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সমন্বয় করেছেন। আমি জেনেটিক এর পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধিসহ আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশিষ্ট্য সমাজ সেবক ও শিবের বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, যে দেশে কারিগরি শিক্ষার হার যতো বেশী সে দেশ ততো উন্নত। তিনি অত্র এলাকার অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান, আপনার সন্তানদের উন্নত ভবিষ্যৎ এর জন্য কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করুন। প্রভাষক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, এসএসসি’র পর ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের সরকারি-বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি-এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীও অর্জন করতে পারবে। অধ্যাপক যাদব চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ শিক্ষায় অনার্স – মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেও নেই কর্মসংস্থানের নিশ্চিয়তা। সচেতন পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এসএসসি’র পর মাত্র ৪বছর পড়াশোনা করে অর্জন করছে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী। যে সনদপত্রে উচ্চতর পড়াশোনাসহ কর্মসংস্থানের শতভাগ সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ইছহাক ভুইয়া বলেন, চলমান সময়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া সচেতন শিক্ষার্থীদের উচ্চতর পড়াশোনায় পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা। সুবর্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা জেনেটিক’র একাডেমিক ইনচার্জ বলেন, শিবের বাজারে প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচথুবী গ্রামের ৩য়পর্বের শিক্ষার্থী মো. ওমর ফারুক, ছাওয়াল পুরের ৩য়পর্বের মো. ইমন হোসেন, জান্নাতুল মাওয়া, সানজিদা আক্তার ও ১মপর্বের মো. পাবেল, শরীফপুর গ্রামের ৩য় পর্বের মো. নিজাম উদ্দিন, ১ম পর্বের মেহেদী হাসান, মো. মমিনুল ইসলাম রবিন, রবিউল হাসান সবুজ, দক্ষিণ রাচিয়া গ্রামের ৩য়পর্বের মো. নাজমুল হাসান, ১মপর্বের মো. মাইন উদ্দিন, সুবর্ণপুর গ্রামের ৩য়পর্বের মো. গোলাম গাউস, ১ম পর্বের কামরুন নাহার ও তামান্না আক্তার, দক্ষিন কালিকাপুর গ্রামের ১মপর্বের মো. মহিন উদ্দিন, বামুইল গ্রামের আইসিটি শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান আন্তরিকতার সহিত সহযোগীতা করায় ধন্যবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মো. মেহেদী হাসান, মো. ওমর ফারুক ও জান্নাতুল মাওয়া বক্তব্য রাখেন। সভাপতি সমাপনী বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনতাহার মিয়া বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানকে ধ্বংস করা হয়েছিল। কারিগরি বিষয়ে জাপানের নাগরিকদের দক্ষতাই আজকে দেশটিকে আবার অর্থনৈতিক শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। একাত্তরে আমরা মাটিকে মুক্ত করেছি। এখন সময় এসেছে কারিগরি শিক্ষার হাত ধরে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের। আমার কাছে খুব ভালো লাগছে এ শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহনও বাড়ছে। আমার বিশ্বাস তোমরা দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে উঠে দেদেশর অর্থনৈতিক মুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখতে পারবে।

Add a Comment