You are here: Home » স্বাস্থ্য » গরমকালে সুস্থ থাকতে খাবার গ্রহণে সতর্ক হন

গরমকালে সুস্থ থাকতে খাবার গ্রহণে সতর্ক হন 

৯

।। জনমত জীবনযাপন ডেস্ক ।। গরমের মধ্যেও আমাদের দৈনন্দিন কাজ করতে হয়। তাই চেষ্টা করতে হবে নিজেকে ভালো রাখার। আসুন জেনে নিই এই গরমে কী খাবেন আর কী খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন।

প্রচুর পানি খান
গরমকালে সুস্থ থাকার অপরিহার্য উপায় হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা। সারা দিনই পানি পান করতে হবে। গরমে প্রচুর ঘাম হয়, কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই লক্ষ রাখতে হবে শরীর যেন কোনোভাবেই পানিশূন্য না হয়ে পড়ে।

জাঙ্কফুড নিষিদ্ধ করুন
ভাজাপোড়া, তেল-চর্বিজাতীয় খাবার যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। অতিরিক্ত গরমে রিচ ফুড আপনার হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

গরমের ফল খান
গ্রীষ্মকালে গরমের প্রাচুর্য যেমন বেশি, ফলের প্রাচুর্যও তেমনি বেশি। গরমের সময় প্রচুর ফল পাকে। শরীর ভালো রাখতে হলে প্রচুর পরিমাণে মৌসুমি ফলমূল খেতে পারেন। বিশেষ করে তরমুজ তো গরমকালের খাবার হিসেবে অসাধারণ। একটি গোপন তথ্যও জেনে নিন, আপনি যদি সারাদিন আর কিছু না খেয়ে কেবল তরমুজ খেয়েই কাটান তাহলে আপনার ওজন এক দিনেই এক কেজি কমে যাবে!

কোমল পানীয় বর্জন করুন
আমরা গরমকালে সবচেয়ে বড় যে ভুলটা করি তা হলো খুব বেশি কোমল পানীয় খাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এগুলো আসলে পেটকে ঠাণ্ডা করার পরিবর্তে গরম করে দেয়। এর ফলে এগুলো খেয়ে গরম থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। কোমল পানীয় সাময়িক তৃপ্তি দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই চেষ্টা করুন কোমল পানীয়র বদলে কেবল পানি পান করার। এ ছাড়াও লেবুর শরবত ও অন্যান্য টাটকা ফলের ঘরে তৈরি শরবত খেতে পারেন।

দুগ্ধজাতীয় খাবার কম খাবেন
দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার গরমকালে ভালো থাকতে হলে প্রতিদিনের খাবার তালিকা থেকে দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবারগুলো বাদ দিতে হবে। যেমন দুধ, পনির, দই ইত্যাদি। কারণ এসব খাবারগুলোও তাপ উৎপাদক খাবার। তাই গরমের সময় এই জাতীয় খাবার যত কম খাবেন তত ভালো।

সালাদ খান, সুযোগ পেলেই
যারা দুপুরে ভারি খাবার গ্রহণ করেন, তাদের জন্য ভাত, প্রচুর শাকসবজি, ছোট-বড় মাছের হালকা রান্না, ডালসহ গোশত, ডিম অভ্যাসমতো পরিমাণে খেতে পারেন। যা-ই খান না কেন সালাদ কিন্তু খেতেই হবে। শুধু দুপুরের খাবারে নয় রাতের খাবারের সাথেও সালাদ খেতে পারেন কিংবা শুধু সালাদও খেতে পারেন যেকোনো সময়।

আমিষ কম খেলে ভালো
যেকোনো মাংস, তা সে যতই স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা হোক না কেন; গরমকালের জন্য সঠিক খাবার নয়। বিশেষ করে তন্দুরি, মশলাদার মাংস তো এ সময়ে স্বাস্থ্যকর নয়ই। এমনকি মাছ, তা সে পুষ্টিতে ভরপুর সামুদ্রিক মাছ হলেও যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়। কারণ আমিষ জাতীয় এই খাবারগুলো দেহকে উত্তপ্ত করে, ফলে ঘাম বেশি হয় এবং খাবার হজমে সমস্যা হয়। এ সময় ডায়েরিয়ায় ভোগারও অন্যতম কারণ হলো মাছ-মাংস।

শাক-সবজি বেশী খান
গরমকালে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খেতে হবে। এখন লাউ পাওয়া যায়। শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে, সবজি হিসেবে লাউ বা এ জাতীয় ঠান্ডা শাক-সবজি খেতে পারেন। এটি তবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অল্প পরিমাণ আমিষের উপস্থিতিও নিশ্চিত করুন। নাহলে আপনি কজে-কর্মে শক্তি পাবেন না।

সস ও পনিরকে না বলা শিখুন
যে কোনো ধরনের সস দিয়ে তৈরি খাবার কিংবা শুধু সসও এ সময়ে খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত নয়। বিশেষ করে, পনিরের সস পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে। সসের সাথে দেহে প্রবেশ করে প্রায় সাড়ে ৩০০ ক্যালরি এবং এর ফলে আপনার দেহে ক্লান্তি আসবে, শরীর ভার ভার মনে হবে। কিছু সসে অতিরিক্ত মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট এবং লবণ থাকে। তাই সস ব্যবহার না করে খাবার যতোটা সম্ভব পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক রাখুন।

Add a Comment