You are here: Home » লেখা-পড়া » অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পেল দরিদ্র কৃষকের কন্যা

অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পেল দরিদ্র কৃষকের কন্যা 

oxford-girl-asha

।। জনমত শিক্ষা ডেস্ক ।। ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়’- এই প্রবাদটি আমাদের সবারই জানা। কিন্তু কয়জন এই প্রবাদ নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারে? সেই হাতেগোনা কয়েকজনের তালিকায় এবার নিজের নাম লেখিয়েছে দরিদ্র এক আদিবাসী কৃষকের কন্যা। নিজের ইচ্ছাশক্তির বলেই বিশ্বসেরা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে ১৬ বছরের আশা। ইংরেজি ভাষা নিয়ে পড়তে আগামী এক বা দুই মাসের মধ্যেই যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাবে সে।

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের পান্না জেলার বাসিন্দা আশা। খুব বেশিদিন হয়নি ইংরেজি শিখতে শুরু করেছিল সে। আর এরই মধ্যে নিজেকে অক্সফোর্ডে পড়ার উপযোগী করে গড়ে তুলেছে আশা। এ কাজে তাকে সহায়তা করেছে জার্মান নাগরিক উলরিক রেইনহার্ড। সে পান্না জেলায় আদিবাসীদের জন্য ইংরেজি ভাষার একটি স্কুল পরিচালনা করে। সেই স্কুল থেকেই অক্সফোর্ডে যাচ্ছে কিশোরী আশা।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে ফোনে আশা বলে, ‘আমি খুবই উদ্দীপ্ত। আমি জানি না যুক্তরাজ্য কেমন। তবে আমি সবচেয়ে ভাল করার জন্য চেষ্টা করবো। আমি ভীত নই।‘

আশার শিক্ষক রেইনহার্ড জানান, মনোহরকন্য হাইস্কুল থেকে মাত্র দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা শেষ করেছে আশা। গত জুনের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ইংরেজিতে সে খুব ভালো করেছে। ইংরেজি পড়াশুনার জন্য আশাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রেইনহার্ড। প্রথমে নিজের মেয়েকে বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে রাজি ছিলেন না আশার মা-বাবা। প্রায় আট মাস ধরে তাদের বুঝিয়ে রাজি করিয়েছে রেইনহার্ড।

আশার পরিবার সম্পূর্ণরূপেই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আর পাঁচটা মেয়ের মতো ১৮ বছর হলে নিজেদের মেয়েকেও বিয়ে দিয়ে দেয়ার চিন্তা ছিল তাদের। ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব এবং বা বিদেশে পড়াশুনার গুরুত্ব বোঝার মতো জ্ঞান তাদের নেই বলেও জানান রেইনহার্ড।

ইতিমধ্যে পাসপোর্ট এবং ভিসার কাজ সম্পন্ন হয়েছে আশার। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই পূরণ হতে যাচ্ছে আশার বিদেশে পড়াশুনার স্বপ্ন।

Add a Comment